Thursday, February 27, 2025

চমৎকার ৫টি ক্রোম ব্রাউজার এক্সটেনশন, আপনার কাজের গতি বাড়বে দ্বিগুন


বর্তমানে আমরা প্রায় সবাই ক্রোম ব্রাউজার ব্যবহার করি, আর এই ব্রাউজারটির সবচাইতে বড় সুবিধা হচ্ছে এক্সটেনশন। এসব এক্সটেনশন আমাদের কাজের গতিকে অনেকগুন বাড়িয়ে দেয়। আজ এমনি চমৎকার ৫টি ক্রোম ব্রাউজার এক্সটেনশন নিয়ে কথা বলব, যেগুলো আপনার ইন্টারনেট ব্রাউজিংকে আরো গতিশীল ও নিরাপদ করবে।

১। Bitwarden

Bitwarden ক্রোম এক্সটেনশন একটি শক্তিশালী এবং নিরাপদ পাসওয়ার্ড ম্যানেজার যা ব্যবহারকারীদের পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ, পরিচালনা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ করার সুযোগ দেয়। এটি একটি ওপেন সোর্স প্ল্যাটফর্ম যা End-to-End এনক্রিপশন ব্যবহার করে, ফলে আপনার ডেটা সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকে।

এই এক্সটেনশনটি ব্যবহার করে আপনি আপনার সমস্ত লগইন তথ্য এক জায়গায় সংরক্ষণ করতে পারেন এবং যেকোনো ওয়েবসাইটে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাসওয়ার্ড পূরণ করতে পারবেন। এতে একটি বিল্ট-ইন পাসওয়ার্ড জেনারেটর রয়েছে, যা শক্তিশালী এবং অনন্য পাসওয়ার্ড তৈরি করতে সহায়তা করে। এছাড়াও, সংবেদনশীল নোট, যেমন Wi-Fi পাসওয়ার্ড, ব্যাংক পিন, এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণ করার জন্য আলাদা অপশনও আছে।

Bitwarden-এর মাধ্যমে আপনি বিভিন্ন ডিভাইসে সিঙ্ক করতে পারবেন, ফলে মোবাইল, ট্যাবলেট এবং কম্পিউটার থেকে একসঙ্গে ডেটা অ্যাক্সেস করা যায়। এক্সটেনশনটি Two-Factor Authentication (2FA) সমর্থন করে, যা অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রদান করে। মাস্টার পাসওয়ার্ড দিয়ে আপনার পুরো ভল্ট নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং এটি ছাড়া অন্য কেউ আপনার ডেটা অ্যাক্সেস করতে পারবে না।

Bitwarden Chrome Web Store থেকে সহজেই ইন্সটল করা যায়। ইন্সটল করার পর আপনাকে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে বা বিদ্যমান অ্যাকাউন্টে লগইন করতে হবে। এটি বিনামূল্যে ব্যবহার করা যায়, তবে উন্নত ফিচার পেতে প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন গ্রহণ করা যায়, যা অত্যন্ত সাশ্রয়ী। Bitwarden এর সহজ ইন্টারফেস এবং উচ্চ নিরাপত্তার কারণে এটি ব্যক্তিগত এবং পেশাগত উভয় ক্ষেত্রেই পাসওয়ার্ড ম্যানেজমেন্টের জন্য অত্যন্ত জনপ্রিয়।

২। Dark Reader

Dark Reader ক্রোম এক্সটেনশন একটি জনপ্রিয় টুল যা যেকোনো ওয়েবসাইটের আলো-ভিত্তিক থিমকে ডার্ক মোডে রূপান্তর করে। এটি বিশেষ করে রাতের বেলা বা কম আলোতে কাজ করার সময় চোখের উপর চাপ কমাতে সাহায্য করে। এক্সটেনশনটি ওয়েবসাইটের রং, উজ্জ্বলতা, কনট্রাস্ট এবং ফন্ট কাস্টমাইজ করার সুযোগ দেয়, যা ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী মানিয়ে নেওয়া যায়।

Dark Reader ওয়েবসাইটের মূল কনটেন্ট এবং ছবি পরিবর্তন না করে কালো ব্যাকগ্রাউন্ড এবং সাদা বা হালকা রঙের টেক্সট তৈরি করে। এক্সটেনশনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সূচি সেট করার অপশন দেয়। এছাড়া, আপনি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটগুলিকে ব্লকলিস্ট বা হোয়াইটলিস্টে যুক্ত করতে পারেন, যাতে সেগুলো ডার্ক মোডে পরিবর্তিত না হয়।

Dark Reader কোনো বিজ্ঞাপন দেখায় না এবং ব্যবহারকারীর ডেটা সংগ্রহ করে না, যা এটি একটি নিরাপদ এবং নির্ভরযোগ্য এক্সটেনশন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এটি Chrome Web Store থেকে সহজেই ডাউনলোড এবং ইন্সটল করা যায়। একবার ইন্সটল করার পর এটি ব্রাউজারের টুলবারে যুক্ত হয় এবং সহজেই কাস্টমাইজেশন অপশন ব্যবহার করা যায়। Dark Reader এমন ব্যবহারকারীদের জন্য আদর্শ, যারা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার স্ক্রিনের সামনে কাজ করেন এবং চোখের ক্লান্তি কমাতে চান। এর ডার্ক মোড ফিচার ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা উন্নত করার পাশাপাশি শক্তি সাশ্রয়েও সহায়ক।

৩। OneTab

OneTab ক্রোম এক্সটেনশন একটি কার্যকর টুল যা ব্রাউজারে খোলা অনেকগুলো ট্যাবকে এক ক্লিকে একটি তালিকায় পরিণত করে। এটি আপনার ব্রাউজারের মেমরি ব্যবহার কমায় এবং ট্যাব ম্যানেজমেন্টকে সহজ করে তোলে। যখন ব্রাউজারে অনেক ট্যাব খোলা থাকে, তখন OneTab ব্যবহার করে সেগুলোকে একটি একক তালিকায় রূপান্তর করা যায়। তালিকা আকারে সংরক্ষিত ট্যাবগুলো সহজেই পুনরায় খোলা সম্ভব, একসঙ্গে বা আলাদা আলাদা করে। এতে করে ব্রাউজার দ্রুতগতিতে কাজ করে এবং মেমরি সাশ্রয় হয়।

OneTab-এর মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট ট্যাবগুলোকে পিন করে রাখতে পারেন, যাতে সেগুলো তালিকা থেকে অজান্তেই হারিয়ে না যায়। এ ছাড়া, আপনি ট্যাবের তালিকাগুলো এক্সপোর্ট বা শেয়ার করতে পারেন, যা দলগত কাজ বা গবেষণার সময় খুবই উপকারী।

এই এক্সটেনশন কোনো বিজ্ঞাপন দেখায় না এবং ব্যবহারকারীর ডেটা ট্র্যাক করে না, যা এটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য করে তুলেছে। Chrome Web Store থেকে এটি ডাউনলোড এবং ইন্সটল করা যায়। ইন্সটল করার পর ব্রাউজারের টুলবারে OneTab-এর আইকন যুক্ত হয়, যা ক্লিক করলেই সমস্ত ট্যাব তালিকায় রূপান্তরিত হয়। OneTab এমন ব্যবহারকারীদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী, যারা অনেক ট্যাব একসঙ্গে খোলার কারণে ব্রাউজারের পারফরম্যান্সের সমস্যা মোকাবিলা করেন এবং একটি সংগঠিত পদ্ধতিতে ট্যাব ম্যানেজ করতে চান।

৪। Grammarly

Grammarly ক্রোম এক্সটেনশন একটি শক্তিশালী লেখা সহায়ক টুল যা আপনার টাইপ করা যেকোনো টেক্সটের ব্যাকরণগত ভুল, বানান সমস্যা, এবং স্টাইল সংশোধন করতে সাহায্য করে। এটি ইমেইল লেখা, সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট, ব্লগ, বা যেকোনো অনলাইন লেখার সময় রিয়েল-টাইম পরামর্শ প্রদান করে, যা লেখার গুণগত মান উন্নত করে।

Grammarly ব্যাকরণ ও বানান ত্রুটির পাশাপাশি সঠিক শব্দের ব্যবহার, গঠন এবং টোন সম্পর্কে পরামর্শ দেয়। এটি রিয়েল-টাইমে লেখার গতি ও স্পষ্টতা উন্নত করার জন্য টেক্সট রিভিউ করে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধন প্রস্তাব করে। এ ছাড়া, এটি শব্দভাণ্ডার উন্নত করার জন্য বিকল্প শব্দ সাজেশন দেয় এবং সঠিক পাংচুয়েশন নিশ্চিত করে।

Grammarly এক্সটেনশন যেকোনো ওয়েবসাইটে কাজ করে যেখানে আপনি টেক্সট টাইপ করেন, যেমন Gmail, Google Docs, LinkedIn, Twitter, এবং আরো অনেক। এটি লেখার টোন চিহ্নিত করে যেমন আনুষ্ঠানিক, প্রফেশনাল, বা ক্যাজুয়াল, এবং প্রাসঙ্গিক সাজেশন দেয়। প্রিমিয়াম ভার্সনটি আরও উন্নত ফিচার প্রদান করে, যেমন টোন অ্যাডজাস্টমেন্ট, শব্দ পুনরাবৃত্তি কমানো, এবং গভীর বিশ্লেষণ। Grammarly ব্যবহার করা সহজ। Chrome Web Store থেকে এটি ডাউনলোড ও ইন্সটল করা যায়। ইন্সটল করার পর এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে যেকোনো টেক্সট ইনপুট ফিল্ডে কাজ করতে শুরু করে। এর সহজ ইন্টারফেস এবং নির্ভুল পরামর্শ লেখার অভিজ্ঞতাকে সহজ ও আনন্দদায়ক করে তোলে।

এটি লেখকদের, শিক্ষার্থীদের, এবং পেশাদারদের জন্য একটি অপরিহার্য টুল, যারা নির্ভুল ও প্রভাবশালী লেখা নিশ্চিত করতে চান। Grammarly আপনার লেখা শুধুমাত্র নির্ভুল করে না, বরং এটি আপনার কমিউনিকেশন দক্ষতাও উন্নত করে।

৫। Hover Zoom+

Hover Zoom+ ক্রোম এক্সটেনশন একটি সহজ ও কার্যকর টুল, যা আপনাকে ওয়েবসাইটের ইমেজ এবং ভিডিও সরাসরি জুম করে দেখার সুযোগ দেয়, কোনো অতিরিক্ত ক্লিক বা নতুন ট্যাবে খোলার প্রয়োজন ছাড়াই। এটি ইন্টারনেটে ব্রাউজ করার সময় দ্রুত ও সহজে কনটেন্ট দেখার অভিজ্ঞতা উন্নত করে।

এই এক্সটেনশনটি যখন সক্রিয় থাকে, তখন আপনি কোনো ইমেজ বা ভিডিওর ওপর মাউস কারসর রাখলেই সেটি বড় আকারে স্ক্রিনে প্রদর্শিত হয়। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমেজের উচ্চ রেজোলিউশন সংস্করণ প্রদর্শন করে, যদি সেটি উপলব্ধ থাকে। ফলে ছোট বা থাম্বনেইল আকারের ইমেজগুলোকেও বিস্তারিতভাবে দেখা যায়।

Hover Zoom+ বিভিন্ন জনপ্রিয় ওয়েবসাইটে কাজ করে, যেমন Facebook, Instagram, Twitter, Amazon, Reddit, এবং অন্যান্য অনেক সাইট। এটি ভিডিও ফাইলের ক্ষেত্রেও সমান কার্যকর। এক্সটেনশনটি ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা ব্যক্তিগতকরণের জন্য কাস্টমাইজেশন অপশন সরবরাহ করে। যেমন, জুমের লেভেল পরিবর্তন, কী-বাইন্ডিং সেট করা, এবং নির্দিষ্ট সাইটে এক্সটেনশন নিষ্ক্রিয় করার মতো ফিচার।

Hover Zoom+ নিরাপত্তার দিক থেকেও উন্নত। এটি ব্যবহারকারীর ডেটা সংগ্রহ করে না এবং কোনো ক্ষতিকারক স্ক্রিপ্ট চালায় না। Chrome Web Store থেকে সহজেই ডাউনলোড এবং ইন্সটল করা যায়। ইন্সটল করার পর এটি ব্রাউজারের টুলবারে অ্যাড হয় এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে শুরু করে। এটি ফটোগ্রাফার, ডিজাইনার, বা সাধারণ ব্রাউজারদের জন্য একটি অত্যন্ত দরকারী টুল, যারা দ্রুত এবং বিস্তারিতভাবে ইমেজ ও ভিডিও দেখতে চান। Hover Zoom+ আপনার ব্রাউজিং অভিজ্ঞতাকে আরও স্মার্ট এবং সহজ করে তোলে।


নতুন মোবাইল কেনার আগে যে ১০টি বিষয় জানা খুবি প্রয়োজন

বর্তমান যুগে মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। বাজারে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন মডেলের মোবাইল ফোন আসছে, যার ফলে সঠিক মোবাইলটি বেছে নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। নতুন মোবাইল কেনার সময় অনেকগুলো বিষয় বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ, যাতে আপনার কেনা ডিভাইসটি দীর্ঘদিন চলে এবং আপনার সঠিক চাহিদা পূরণ করতে পারে। আজ আমরা তেমনি গুরুত্বপূর্ণ ১০টি বিষয় সম্পর্কে জানবো:-

১। বাজেট নির্ধারণ

প্রথমেই ঠিক করুন আপনি কত টাকা খরচ করতে পারবেন। মোবাইলের দাম হাজার থেকে শুরু করে লাখ টাকার মধ্যেও আছে। বাজেট অনুযায়ী ফোন বাছাই করুন। মনে রাখবেন, দামি ফোন মানেই সবচেয়ে ভালো ফোন নয়। আপনার প্রয়োজন অনুসারে সঠিক ফোনটি বেছে নিন। মোবাইলে সাধারণত ৩টি বাজেট রেঞ্জ ফোন আছে- ১। বাজেট ফোন, ২। মিড-রেঞ্জ ফোন এবং ৩। ফ্ল্যাগশিপ বা প্রিমিয়াম ফোন।

  • বাজেট ফোন (১০,০০০ – ২০,০০০ ) টাকা: যারা সাধারণ কাজ যেমন কল করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং হালকা গেমিং করতে চান তাদের জন্য উপযুক্ত।
  • মিড-রেঞ্জ ফোন (২০,০০০ – ৫০,০০০ ) টাকা: যারা ভালো ক্যামেরা, মাল্টিটাস্কিং, গেমিং এবং উন্নত পারফরম্যান্স চান তাদের জন্য ভালো পছন্দ।
  • ফ্ল্যাগশিপ বা প্রিমিয়াম ফোন (৫০,০০০+ ) টাকা: যারা সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স, প্রিমিয়াম ডিজাইন, সেরা ক্যামেরা এবং লং-টার্ম সফটওয়্যার আপডেট চান তাদের জন্য উপযুক্ত এটি।

২। প্রসেসর

একটি মোবাইলের ৫০%-৬০% পারফরম্যান্স নির্ভর করে তার প্রসেসরের উপর আর বাকি ৪০% নির্ভর করে অন্যান্য যেমন, র‌্যাম, জিপিইউ, সফটওয়্যার ইত্যাদি। আপনি যদি গেমিং বা হাই-টাস্ক করতে চান, তাহলে শক্তিশালী প্রসেসর নির্বাচন করা আপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে কোয়ালকম স্ন্যাপড্রাগন (Qualcomm Snapdragon) ৭ এবং ৮ সিরিজের প্রসেসর উন্নত পারফরম্যান্স দেয়, মিডিয়াটেক ডাইমেনসিটি (MediaTek Dimensity) সিরিজও ভালো বিকল্প হতে পারে। আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপল এ সিরিজের প্রসেসর সর্বোচ্চ পারফরম্যান্স প্রদান করে।

৩। র‌্যাম ও স্টোরেজ

র‌্যাম (RAM) এবং স্টোরেজ (Storage) মোবাইলের গতি ও তথ্য সংরক্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৪জিবি বা ৬জিবি র‌্যাম সাধারণ ব্যবহার যেমন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্রাউজিং, কল করা ও হালকা অ্যাপ ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট। ৮জিবি বা ১২জিবি র‌্যাম মাল্টিটাস্কিং ও হেভি গেমিংয়ের জন্য ভালো। স্টোরেজের ক্ষেত্রে, ৬৪জিবি স্টোরেজ সাধারণ ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট হলেও, অধিক অ্যাপ ও মিডিয়া ফাইল সংরক্ষণের জন্য ১২৮জিবি বা তার বেশি স্টোরেজ নেওয়া ভালো। যদি প্রচুর ভিডিও ধারণ বা বড় ফাইল সংরক্ষণ করতে হয়, তাহলে ২৫৬জিবি বা তার বেশি স্টোরেজের ফোন বেছে নেওয়া উচিত।

৪। ডিসপ্লে

মোবাইলের ডিসপ্লে হলো ফোনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, যা ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। সাধারণত এটি দুই ধরনের হয়। এলসিডি ও ওএলইডি/অ্যামোলেড। এলসিডি তুলনামূলক সস্তা ও ব্যাটারি সাশ্রয়ী, তবে কালো রঙ কম গভীর দেখায়, কারণ এতে ব্যাকলাইট সবসময় সক্রিয় থাকে। অন্যদিকে, ওএলইডি বা অ্যামোলেড ডিসপ্লেতে প্রতিটি পিক্সেল আলাদাভাবে আলো দেয়, ফলে কালো রঙ পারফেক্ট হয় এবং কন্ট্রাস্ট বেশি থাকে। এলটিপিও ওএলইডি প্রযুক্তি থাকলে রিফ্রেশ রেট ১ থেকে ১২০ হার্জ পর্যন্ত পরিবর্তন হতে পারে, যা ব্যাটারি সাশ্রয়ে সহায়ক।

ডিসপ্লের রেজোলিউশন ও পিক্সেল ঘনত্ব শার্পনেস নির্ধারণ করে। Full HD+ বা Quad HD+ রেজোলিউশন স্পষ্ট ইমেজ দেয় এবং ৪০০ পিপিআই-এর বেশি হলে পিক্সেল খালি চোখে বোঝা যায় না। রিফ্রেশ রেট স্ক্রিনের মসৃণতা বাড়ায়, যেখানে ৬০ হার্জ স্ট্যান্ডার্ড হলেও ৯০ বা ১২০ হার্জ স্ক্রলিং ও গেমিং অভিজ্ঞতাকে উন্নত করে। কিছু ডিসপ্লেতে অ্যাডাপ্টিভ রিফ্রেশ রেট থাকে, যা কন্টেন্ট অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তন হয়, ফলে ব্যাটারি কম খরচ হয়।

ডিসপ্লের উজ্জ্বলতা যেখানে ৪০০-৬০০ নিট ইনডোর ব্যবহারের জন্য যথেষ্ট হলেও আউটডোরে স্পষ্টভাবে দেখতে হলে ৮০০ বা তার বেশি নিট প্রয়োজন। HDR সাপোর্ট থাকলে ভিডিও ও গেমের রঙ ও কনট্রাস্ট উন্নত হয়, তবে এজন্য HDR10 বা Dolby Vision সাপোর্ট থাকা দরকার। ডিসপ্লের আকার ও আসপেক্ট রেশিও ব্যবহারের ধরন নির্ধারণ করে। ৬.৫ থেকে ৬.৭ ইঞ্চির স্ক্রিন গেমিং ও ভিডিও দেখার জন্য ভালো হলেও পকেটে বহন করা কিছুটা কঠিন হতে পারে। দীর্ঘ আসপেক্ট রেশিও (যেমন ২০:৯) ভিডিও দেখার সময় ব্ল্যাক বর্ডার কম দেখায়।

টাচ স্যাম্পলিং রেট বেশি হলে গেমিং ও দ্রুত টাইপিং আরও সহজ হয়। ডিসপ্লে সুরক্ষার জন্য গরিলা গ্লাস ভিক্টাস বা ড্রাগনট্রেইল ব্যবহৃত হয়, যা স্ক্র্যাচ ও ফাটল থেকে রক্ষা করে। কিছু বাড়তি ফিচারের মধ্যে অলওয়েজ-অন ডিসপ্লে (AOD) স্ক্রিন বন্ধ থাকলেও সময় ও নোটিফিকেশন দেখাতে পারে, যা ওএলইডি ডিসপ্লের জন্য উপযুক্ত। কার্ভড এজ ডিসপ্লে দেখতে সুন্দর হলেও এক্সিডেন্টাল টাচের সমস্যা তৈরি করতে পারে। আন্ডার-ডিসপ্লে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর আধুনিক ফোনে জনপ্রিয়, তবে এর গতি ও নির্ভুলতা ফোনভেদে ভিন্ন হতে পারে।

রঙের যথার্থতার জন্য sRGB বা DCI-P3 কালার প্রোফাইল সাপোর্ট থাকা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে ফটো এডিটিংয়ের ক্ষেত্রে। কিছু ফোনে কালার ক্যালিব্রেশন অপশন থাকে, যা রঙকে আরও বাস্তবসম্মত করে। চোখের আরামের জন্য ব্লু লাইট ফিল্টার বা নাইট মোড ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে ওএলইডি ডিসপ্লেতে PWM প্রযুক্তির কারণে কিছু ব্যবহারকারীর চোখে স্ট্রেইন হতে পারে, যা এলসিডি ডিসপ্লের ডিসি ডিমিং প্রযুক্তি কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।

ডিসপ্লে বাছাইয়ের সময় প্রয়োজন বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। গেমিং বা কন্টেন্ট ক্রিয়েশনের জন্য অ্যামোলেড বা ওএলইডি, ১২০ হার্জ রিফ্রেশ রেট ও HDR সাপোর্ট হলে সবচেয়ে ভালো, যেখানে সাধারণ ব্যবহারের জন্য ৯০ হার্জ রিফ্রেশ রেট ও Full HD+ রেজোলিউশন যথেষ্ট। ব্যাটারি লাইফ বাড়াতে LTPO টেকনোলজি ও অ্যাডাপ্টিভ রিফ্রেশ রেট ভালো হতে পারে। দামি ফোনের ডিসপ্লে ফিচার উন্নত হলেও অনেক বাজেট ফোনেও ভালো ডিসপ্লে পাওয়া যায়। তাই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে ডিসপ্লে হাতে দেখে রঙ, উজ্জ্বলতা ও টাচ রেসপন্স যাচাই করে তারপর নিবেন।

৫। ক্যামেরা

ভালো ক্যামেরার জন্য শুধু মেগাপিক্সেল নয়, সেন্সরের আকার, অ্যাপারচার (f/1.8 বা কম), OIS স্ট্যাবিলাইজেশন, ও সফটওয়্যার প্রসেসিং গুরুত্বপূর্ণ। বড় সেন্সর বেশি আলো ধরে, ফলে কম আলোতেও ভালো ছবি তোলে। HDR, AI প্রসেসিং ও নাইট মোড থাকলে ছবির গুণমান ভালো হয়।

লেন্সের ধরন

  • আল্ট্রা-ওয়াইড: বড় ফ্রেমে ছবি তোলার জন্য
  • টেলিফটো: অপটিক্যাল জুমে স্পষ্ট ছবি
  • ম্যাক্রো: কাছের বস্তু তোলার জন্য (সকল ফোনে কার্যকর নয়)

ভিডিওগ্রাফি
4K/8K রেকর্ডিং, 60FPS, OIS ও Dolby Vision HDR থাকলে ভিডিওর মান উন্নত হয়। সেলফি ক্যামেরায় অটোফোকাস থাকলে ভালো পারফরম্যান্স দেয়।

৬। ব্যাটারি

মোবাইল ফোন কেনার আগে ব্যাটারির ক্ষমতা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ফোনের ব্যাকআপ নির্ধারণ করে। সাধারণত ৪৫০০ থেকে ৫০০০mAh ব্যাটারি ভালো ব্যাকআপ দেয়, তবে এটি ডিসপ্লের রিফ্রেশ রেট, প্রসেসরের দক্ষতা এবং সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশনের ওপর নির্ভর করে। উচ্চ রিফ্রেশ রেট (৯০Hz/১২০Hz) ও শক্তিশালী চিপসেট থাকলে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হতে পারে, তাই LTPO ডিসপ্লে বা অ্যাডাপ্টিভ রিফ্রেশ রেট সুবিধা থাকলে ব্যাটারি দীর্ঘস্থায়ী হয়। চার্জিং স্পিডও গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে ২৫W, ৩৩W, ৬৭W বা ১২০W ফাস্ট চার্জিং প্রযুক্তি পাওয়া যায়। বেশি ওয়াটের চার্জিং কম সময়ে ব্যাটারি পূর্ণ করতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির আয়ুষ্কাল কমতে পারে। ওয়্যারলেস চার্জিং থাকলে সুবিধা বাড়ে, বিশেষ করে যারা প্রতিদিন চার্জিং ক্যাবল ব্যবহারে বিরক্ত হন।

৭। অপারেটিং সিস্টেম

মোবাইলের অপারেটিং সিস্টেম (OS) নির্ধারণ করে ফোনের পারফরম্যান্স, ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ও আপডেট এর সুবিধা। iOS দ্রুত, দীর্ঘমেয়াদী আপডেট পায়, তবে কাস্টমাইজেশন সীমিত। অ্যান্ড্রয়েড বেশি ফ্লেক্সিবল, কিন্তু ব্র্যান্ডভেদে সফটওয়্যার অভিজ্ঞতা ভিন্ন হয়। স্টক অ্যান্ড্রয়েড ক্লিন, যেখানে কাস্টম UI (One UI, MIUI) বাড়তি ফিচার দেয় কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে ব্লটওয়্যার থাকতে পারে। আপডেট কতদিন পাওয়া যাবে তা দেখাও গুরুত্বপূর্ণ—স্যামসাং ও গুগল ৭ বছর পর্যন্ত আপডেট দেয়, অন্যরা ২-৩ বছর পর্যন্ত। ফোন কেনার আগে সফটওয়্যার অপ্টিমাইজেশন ও আপডেট নীতিমালা যাচাই করে নিন।

৮। নেটওয়ার্ক

মোবাইলের নেটওয়ার্ক সাপোর্ট নির্ধারণ করে কল কোয়ালিটি, ইন্টারনেট স্পিড ও ভবিষ্যৎ ব্যবহারযোগ্যতা। ৫জি সাপোর্ট থাকলে ভবিষ্যতে আপগ্রেডের প্রয়োজন হবে না, তবে বর্তমান ব্যবহারের জন্য ৪জি যথেষ্ট। ব্যান্ড সাপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যদি ভ্রমণ বেশি করেন। বেশি ৪জি/৫জি ব্যান্ড থাকলে নেটওয়ার্ক কাভারেজ ভালো পাওয়া যায়। VoLTE ও VoWiFi সুবিধা থাকলে দুর্বল সিগন্যাল এলাকাতেও ভালো কল কোয়ালিটি নিশ্চিত হয়।

৯। ব্র্যান্ড

মোবাইল ফোনের ব্র্যান্ড নির্ধারণ করে এর হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার অপটিমাইজেশন, আপডেট নীতিমালা ও বিক্র সেবা। অ্যাপল, স্যামসাং, গুগল ফ্ল্যাগশিপ মোবাইল ক্যাটাগরিতে নির্ভরযোগ্য, দীর্ঘমেয়াদী আপডেট ও প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতা দেয়। শাওমি, রিয়ালমি, ওয়ানপ্লাস মোবাইল ফোনগুলো ভালো স্পেসিফিকেশন দেয় বাজেট ও মিড-রেঞ্জ সেগমেন্টের মধ্যে। ভিভো ও অপ্পো মোাবইল ফোন ক্যামেরা ও ডিজাইনে ফোকাস করে, আর গেমিং ফোনের জন্য আসুস আরওজি বা রেডম্যাজিক ভালো অপশন। ফোন কেনার আগে ব্র্যান্ডের আপডেট সাপোর্ট, সার্ভিস সেন্টারের সুবিধা ও রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

১০। রিভিউ

সবকিছু যাচাই করার পর যদি দেখেন ফোনটির রিভিউ ভালোনা তহলে কিন্তু কখনো সেই ফোনটি কেনা যাবেনা। একটি জিনিস ভালো খারাপ সেটা সবচাইতে ভালো বোঝা যায় ব্যবহার করার মাধ্যমে। তাই অবশ্যই ভালো রিভিউ সম্পন্ন মোবাইল ফোনটি নিবেন। তার জন্য অনলাইনে ইউটিউব রিভিউ, টেক ব্লগ, বা ফেসবুক গ্রুপ থেকে রিভিউ দেখে নিতে পারেন । অনলাইনে এমন অনেক ভিডিও পাওয়া যায়।

সবশেষে আপনার প্রয়োজন ও বাজেটের সাথে মিল রেখে সিদ্ধান্ত নিন, সময় নিয়ে রিসার্চ করুন এবং সঠিক পছন্দ করুন! 😊

গুগল কোডিং প্রেমীদের জন্য নিয়ে এসেছে ফ্রি এআই জেমিনি কোড এসিস্ট



গুগল লঞ্চ করেছে নতুন এআই কোডিং সহকারী ‘জেমিনি কোড এসিস্ট’ যা বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবে সবাই। এতে ব্যবহারকারীদের জন্য বেশ উচ্চ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নতুন টুলটি মূলত দুটি সংস্করণে এসেছে—’জেমিনি কোড এসিস্ট ফর ইন্ডিভিজুয়ালস’ এবং ‘জেমিনি কোড এসিস্ট ফর গিটহাব’।

জেমিনি কোড এসিস্ট ফর ইন্ডিভিজুয়ালস হলো এমন একটি এআই সহকারী, যা ব্যবহারকারীদের কোড লেখার সময় সাহায্য করতে পারে। এটি একটি চ্যাট উইন্ডোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সাথে কথোপকথন চালাতে পারে, যেখানে ব্যবহারকারী সাধারণ ভাষায় নির্দেশ দিলে এআই মডেল সেটি বুঝে কোডের মধ্যে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে পারে। এটি ত্রুটি শনাক্ত করতে, কোডের অসম্পূর্ণ অংশ সম্পূর্ণ করতে এবং কোডের জটিল অংশগুলো সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করতে সক্ষম। এই সুবিধাগুলো গিটহাবের ‘Copilot’ এর মতোই কাজ করে, তবে এতে ব্যবহারকারীদের জন্য বেশি সুযোগ-সুবিধা রয়েছে।

জেমিনি কোড এসিস্ট এর এই সংস্করণটি গুগলের জেমিনি ২.০ এআই মডেলের একটি বিশেষ সংস্করণের উপর ভিত্তি করে তৈরি, যা কোডিংয়ের জন্য বিশেষভাবে অনুকূল করা হয়েছে। এটি জনপ্রিয় কোডিং প্ল্যাটফর্মগুলোর সাথে একীভূতভাবে কাজ করতে পারে, যেমন ভিএস কোড এবং জেটব্রেইনস। তাছাড়া, এটি বিভিন্ন জনপ্রিয় প্রোগ্রামিং ভাষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

এটির আরো একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, এই টুলটি প্রতি মাসে ১,৮০,০০০ কোড কমপ্লিশন করা যাবে, যা গিটহাব কোপাইলটের বিনামূল্যের প্ল্যানের তুলনায় ৯০ গুণ বেশি। তাছাড়া, ব্যবহারকারীরা প্রতিদিন ২৪০ বার চ্যাট অনুরোধ করতে পারবেন, যা গিটহাব কোপাইলটের বিনামূল্যের প্ল্যানে অনুমোদিত সংখ্যার চেয়ে প্রায় ৫ গুণ বেশি।

জেমিনি কোড এসিস্ট এর আরও একটি সুবিধা হলো এর ১,২৮,০০০-টোকেনের কনটেক্সট উইন্ডো, যা প্রতিযোগিতামূলক অন্যান্য টুলের তুলনায় চার গুণ বড়। এর ফলে এটি দীর্ঘ ও জটিল কোড বিশ্লেষণ করতে এবং বড় কোডবেসের উপর আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে সক্ষম হয়। যারা এটি ব্যবহার করতে চান, তারা এখনই বিনামূল্যে পাবলিক প্রিভিউ-এর জন্য সাইন আপ করতে পারবেন।

জেমিনি কোড এসিস্ট ফর গিটহাব মূলত একটি স্বয়ংক্রিয় কোড পর্যালোচনা ‘এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করে। এটি গিটহাবের ‘পুল রিকোয়েস্ট’ স্ক্যান করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ত্রুটি শনাক্ত করে এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনী সম্পর্কে পরামর্শ প্রদান করে। এটি কোডের কার্যকারিতা বাড়াতে এবং ডেভেলপারদের উন্নত মানের কোড লিখতে সহায়তা করে।

গুগল এই টুলগুলো চালু করেছে মাইক্রোসফট এবং এর মালিকানাধীন গিটহাবের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে যাওয়ার জন্য। সাত মাস আগে, গুগল গিটহাব কোপাইলটের নেতৃত্বদানকারী রায়ান সালভাকে নিয়োগ করেছিল, যিনি এখন গুগলের ডেভেলপার টুলিং প্রকল্প পরিচালনা করছেন।

বিনামূল্যে এই টুলটি চালু করার মাধ্যমে গুগল নতুন ডেভেলপারদের আকৃষ্ট করতে চায়, যাতে তারা ক্যারিয়ারের শুরুতেই জেমিনি কোড এসিস্ট ব্যবহার করতে শুরু করে। ভবিষ্যতে এই ব্যবহারকারীদের কেউ কেউ গুগলের বাণিজ্যিক কোডিং সহায়ক সেবায় উন্নীত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা থেকে গুগল আয় করতে পারবে।

গুগল ইতিমধ্যে প্রায় এক বছর ধরে ব্যবসায়িক গ্রাহকদের জন্য জেমিনি কোড এসিস্ট বিক্রি করছে। গত ডিসেম্বর মাসে গুগল ঘোষণা করেছিল যে, এই এআই কোডিং সহকারী শিগগিরই গিটল্যাব, গিটহাব, এবং গুগল ডকস-এর মতো তৃতীয় পক্ষের সরঞ্জামগুলোর সাথে সংযুক্ত হবে। এন্টারপ্রাইজ সংস্করণে আরও কিছু অতিরিক্ত সুবিধা রয়েছে, যেমন অডিট লগ, অন্যান্য গুগল ক্লাউড পণ্যগুলোর সাথে ইন্টিগ্রেশন, এবং ব্যক্তিগত রিপোজিটরির জন্য কাস্টমাইজেশন।

এক সাথে যত খুশি ততো ই-মেইল চেক করুন ডেস্কটপ থেকে! প্রয়োজনীয় না হলে মূল্য ফেরত


কেমন আছেন সবাই? আপনাদের দোয়ায় আমি ভাল আছি। আজকে আপনাদের জন্য বেশ কাজের একটা সফটওয়্যার নিয়ে হাজির হয়েছি। তবে আগেই বলে নিচ্ছি মুল্য ফেরত কিন্তু ভার্চুয়ালি কারন লাখ লাখ টাকার সফটওয়্যার আপনারাও পাচ্ছেন মাগনা আর আমরা যারা এগুলা দিচ্ছি তাও কিন্তু মাগনা! মানে সব কিছুই ভার্চুয়ালি। মুল্যের কথাটা প্রদর্শনী ব্যতীত অন্য কিছু নয়।

এবার কাজের কথায় আসি। যে সফটওয়্যারটির কথা বলছি তার নাম হলো Multi Email Notifier। নাম দেখেই নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন এর কাজ কি। তারপরেও বলছি এটির কাজ হলো আপনার বিভিন্ন ইমেইল আইডিতে নতুন ইমেইল আসা মাত্রই শব্দ এবং ডেস্কটপ এলার্টের মাধ্যমে আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করা। অর্থাৎ আপনার যদি একাধিক আইডি থাকে তাহলে বারবার কষ্ট করে লগ ইনের ঝামেলা করতে হবে না।

এই সফটওয়্যারটি আপনার সকল ইমেইল আইডির নতুন ইমেইল গুলো শো করবে। আর এর জন্য আপনাকে কিছুই করতে হবে না। শুধু প্রথমে একবার আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ ইন করে রাখলেই হবে। তারপর অটোমেটিক ১০ মিনিট পর পর চেক করে আপনাকে জানিয়ে দিবে আপনার কোন নতুন মেইল এসেছে কিনা।

আরও যেসব সুবিধা পাবেন

জনপ্রিয় সব ইমেইল প্রভাইডারের সাপোর্ট। যেমনঃ

  1. Gmail
  2. Hotmail
  3. Live
  4. Yahoo
  • অটোমেটিক ১০ মিনিট পর পর ইমেইল চেক।
  • সাব্জেক্ট, প্রেরক এবং সময় দেখার সুযোগ সাথে সাথেই।
  • পছন্দ অনুযায়ি সাউন্ড সিলেক্ট করা।
  • আনলিমিটেড ইমেইল আইডি যুক্ত করার সুবিধা।
  • সর্বোচ্চ নিরাপদ সিকিউরিটি সিস্টেম।
  • ইমেইল বেক আপ রাখার সুবিধা।

এছাড়াও আরো কত কি!

অপারেটিং সিস্টেমঃ

Windows ME, 2000, XP, 2003, Vista, Windows 7

ডাউনলোড

প্রোডাক্ট পাতা: http://www.multiemailnotifier.com

আশাকরি সবার কাজে লাগবে। ধন্যবাদ সবাইকে।

ডিলিট করা হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ ফিরিয়ে আনার উপায়







মেটার অধীন বিশ্বের জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ। যারা স্মার্টফোন ব্যবহার করেন তাদের বেশিরভাগের ফোনে এই অ্যাপ রয়েছে। বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ এটি। ব্যক্তিগত আলাপচারিতা থেকে শুরু করে অফিসিয়াল কাজের জন্যও এটি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু ভুলবশত গুরুত্বপূর্ণ হোয়াটসঅ্যাপ মেসেজ বা চ্যাট ডিলিট হয়ে গেলে ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সমস্যা পড়তে হয়। যা প্রায় সময়ই হয়ে থাকে। তবে চিন্তার কিছু নেই, কারণ হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট রিকভার করার দুটি কার্যকর উপায় রয়েছে। এর মধ্যে ক্লাউড ব্যাকআপ এবং লোকাল ব্যাকআপ পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ব্যবহার করে আপনি সহজেই মুছে যাওয়া মেসেজ ফিরিয়ে আনতে পারেন। কীভাবে, চলুন দেখে নেওয়া যাক।

হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট হারালে করণীয়?
অ্যানড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ নিজেই ফোনের ইন্টারনাল স্টোরেজে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লোকাল ব্যাকআপ তৈরি করে। ফলে, গুগল ড্রাইভ ছাড়াও ফোনের লোকাল ব্যাকআপ ফাইল ব্যবহার করে ডিলিট হওয়া মেসেজ পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।

এই পদ্ধতিতে চ্যাট রিস্টোর করতে গেলে প্রথমে ফোনের ফাইল ম্যানেজার অ্যাপে ঢুকতে হবে। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ ফোল্ডারের Databases সাব-ফোল্ডারে যেতে হবে, যেখানে msgstore-YYYY-MM-DD.1.db.crypt14 নামের ব্যাকআপ ফাইল পাওয়া যাবে। এখানে YYYY-MM-DD মানে সর্বশেষ ব্যাকআপ নেওয়ার তারিখ।

এখন, এই ফাইলটির নাম পরিবর্তন করে msgstore.db.crypt14 করতে হবে। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ আনইনস্টল করে আবার ইনস্টল করতে হবে। ইনস্টলেশন চলাকালীন Restore অপশন সিলেক্ট করলেই আগের সমস্ত চ্যাট ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

গুগল ড্রাইভ ব্যাকআপ থেকে চ্যাট পুনরুদ্ধার করার উপায়
বেশিরভাগ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী গুগল ড্রাইভে চ্যাটের ব্যাকআপ রাখার অপশন চালু করে রাখেন। তবে গুগল ড্রাইভ থেকে চ্যাট রিস্টোর করতে গেলে কিছু শর্ত মানতে হবে।

প্রথমত, রিকভার করার জন্য অবশ্যই সেই একই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর এবং গুগল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে, যেখানে ব্যাকআপ সংরক্ষিত রয়েছে। এরপর হোয়াটসঅ্যাপ আনইনস্টল করে পুনরায় ইনস্টল করতে হবে।

ইনস্টলেশন শেষে হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর দিয়ে লগ-ইন করতে হবে এবং ওটিপি ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। এবারে Restore অপশন নির্বাচন করলেই গুগল ড্রাইভে সংরক্ষিত সমস্ত চ্যাট এবং মেসেজ পুনরুদ্ধার হয়ে যাবে।

প্রসঙ্গত, হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ সিস্টেম এতটাই উন্নত যে, মেসেজ ডিলিট হয়ে গেলেও লোকাল ব্যাকআপ বা গুগল ড্রাইভের সাহায্যে সহজেই রিকভার করা যায়। তবে, চ্যাট পুনরুদ্ধারের জন্য নিয়মিত ব্যাকআপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি আপনার মেসেজ ভুলবশত ডিলিট হয়ে যায়, তবে এই দুই গোপন পদ্ধতির মাধ্যমে আপনি মিনিটের মধ্যে হারানো মেসেজ ফিরিয়ে আনতে পারবেন।

জিমেইল স্টোরেজ ফুল? জানুন খালি করার উপায়



সারা বিশ্বে কয়েক কোটি মানুষ ই-মেইল আদান-প্রদানে ভরসা রাখেন জিমেইল। গুগল দেয় এই জিমেইল পরিষেবা। অনেকেই ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে জিমেইল ব্যবহার করেন। অনেকেই আবার তাদের জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অফিশিয়াল মেইল ​​পাঠান।

গুগল জিমেইল ব্যবহারকারীদের বিনামূল্যে ১৫ জিবি ক্লাউড স্টোরেজ স্পেস দেয়। কিন্তু আপনার স্টোরেজ পূর্ণ হলে আপনি এটি খালি করতে পারেন। এর জন্য
গুগল জিমেইলে স্টোরেজ ম্যানেজমেন্ট টুল যুক্ত করেছে। তবে এটি কোনও নতুন বৈশিষ্ট্য নয়, গুগল সেটিংসে বিভাগে রয়েছে এর অ্যাক্সেস। ব্যবহারকারীদের জন্য কাজ সহজ করতেই দেওয়া হয়েছে এই অ্যাক্সেস।

অ্যাপ থেকে স্টোরিজ খালি করুন

১ প্রথমে আপনার স্মার্টফোনে জিমেইল অ্যাপ খুলুন।
২ এবার আপনার প্রোফাইলের ওপরের ডানদিকের আইকনে চাপ দিন।
৩ এখন আপনি একটি ক্লাউড আইকন দেখতে পাবেন। এর সঙ্গে আপনার জিমেইল অ্যাপটি কত স্টোরেজ স্পেস ব্যবহার করছে তা জানতে পারবেন।
৪ এরপর আপনি স্টোরেজ ম্যানেজার টুল অ্যাক্সেস করতে ‘ক্লিন আপ স্পেস’ বোতামে ক্লিক করুন।
৫ এখানে আপনি একটি ‘লার্জ আইটেমস’ বিভাগ দেখতে পাবেন, যেখানে আপনি একবারে প্রচুর স্পেস খালি করতে বড় ফাইলগুলো দেখতে ও মুছে ফেলার বিকল্পগুলো দেখতে পাবেন।
৬ এই পর্বে এসে আপনাকে ‘লার্জ আইটেমস’ বিভাগের অধীনে যেকোনও বক্সে ট্যাপ করতে হবে।
৭ এবার গুগল আপনাকে সব বড় ফাইল দেখাবে। আপনি প্রোফাইল আইকনে আলতো চাপ দিয়ে তালিকায় প্রদর্শিত ফলাফলগুলোর যেকোনও একটি পরীক্ষা করতে পারেন।
৮ একবার আপনি এটি করার পরে নিজের জায়গায় ফিরে যেতে পারেন। চাইলে ফাইল মুছে ফেলার জন্য তা নির্বাচন করতে পারেন।

ভিন্ন উপায়

এছাড়াও জিমেইলে ইমেইল করার জন্য স্পেস খালি করতে গুগল ড্রাইভ অ্যাপ বা গুগল ফটোস অ্যাপে যান। এখানে গিয়ে ম্যানুয়ালি ডকুমেন্ট বা ফটো মুছে দিন। এর সাহায্যে আপনি কিছু ভিডিও মুছে ফেলতে পারেন, যা সহজেই আপনার অ্যাকাউন্টে জায়গা করে দেবে।

টিভিতে অ্যান্টি-গ্লেয়ার প্রযুক্তি জরুরী কেন?


টিভিতে স্ট্রেঞ্জার থিংস দেখছেন—সঙ্গীতের মূর্ছনায় ভেকনা থেকে পালানোর চেষ্টা করছে ম্যাক্স, রোমাঞ্চের পারদ তুঙ্গে। ঠিক এ সময়ই, বাতাসে জানালার পর্দা সরে গেল। পর্দা গলে দুপুরের কড়া রোদ পড়ল টিভির স্ক্রিনে, চরম বিরক্তি নিয়ে আপনি গেলেন পর্দা ঠিক করতে। টিভিতে পছন্দের অনুষ্ঠান দেখার সময় মনোযোগ ও আনন্দ নষ্ট করতে এরকম দু’-একটি মুহূর্তই যথেষ্ট।

তবে, এ নিয়ে এখন আর খুব বেশি দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। অ্যান্টি-গ্লেয়ারের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে টিভি দেখার অভিজ্ঞতা হবে এখন আরও সমৃদ্ধ।

ওএলইডি প্রযুক্তি এর উজ্জ্বল রঙ, উচ্চ গুণমান ও দুর্দান্ত কনট্রাস্টের মাধ্যমে বিনোদনের ক্ষেত্রে যুগান্তকারী অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে। ২০০৪ সালে বাজারে আসার পর থেকে এ প্রযুক্তি সহজেই সবার মন জয় করে নেয়। দেখা যায়, বেশিরভাগ ওএলইডি টিভি অন্ধকারে চমৎকার পারফরমেন্স দিলেও উজ্জ্বল আলোতে টিভির স্ক্রিন ঠিকভাবে দেখা যায় না। এক্ষেত্রে, ঘরের আলোর সাথে প্রাকৃতিক আলো মিলে একধরনের ওয়াশ-আউট ইফেক্ট তৈরি করে, যা টিভি দেখার ক্ষেত্রে অসুবিধা সৃষ্টি করে চোখের ওপর চাপ তৈরি করে। আর এই অসুবিধা থেকে মুক্তি পেতে আমরা কখনো বসার জায়গা বদলে ফেলি, কখনো ভারি পর্দা দিয়ে রুমে প্রাকৃতিক আলো ঢোকায় বাধা সৃষ্টি করি।

তবে, নতুন প্রযুক্তির উন্নতির ফলে এখন এই অসুবিধা মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। অ্যান্টি-গ্লেয়ার প্রযুক্তির কারণে এখন উন্নত সমাধান ও অনন্য অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা যাচ্ছে। যুগান্তকারী এই প্রযুক্তির মাধ্যমে এখন দিনের যেকোনো সময় বা পরিবেশে স্পষ্ট ও প্রাণবন্ত ভিজ্যুয়াল উপভোগ করা সম্ভব। আগেকার ওএলইডি প্যানেলের তুলনায় এতে এম্বোসড সারফেস ও বিশেষ প্রলেপ ব্যবহার করা হয়েছে, যা আলোকে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে দেয়। ফলে চোখের প্রশান্তির পাশাপাশি, মনোযোগ স্ক্রিনের ওপরেই থাকে, আশপাশের আলোর দিকে যায় না।

বাংলাদেশের মতো দেশে যেখানে বেশিরভাগ বাড়িতেই প্রাকৃতিক আলো ঘরে ঢোকাকে প্রাধান্য দেয়া হয় সেখানে টিভিতে অ্যান্টি-গ্লেয়ার প্রযুক্তি থাকলে তা সবার জন্য আরামদায়ক ও অনন্য অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করে। একা বসে ‘স্ট্রেঞ্জার থিংস’ দেখা বা পরিবারের সবার সঙ্গে একসাথে ‘সি বিস্ট’ দেখার সময় এখন আর মনোযোগ অন্যদিকে সরে যাবে না। স্যামসাং এস৯৫ডি-তে থাকা অ্যান্টি-গ্লেয়ার প্রযুক্তি এই আলো-ছায়ার খেলা দূরে রেখে চোখের ওপর থেকে চাপ কমাবে; পাশাপাশি টিভি দেখার অভিজ্ঞতাকেও অনন্য করে তুলবে। এখন আর পর্দা টেনে দেয়া বা সোফা, টিভি সরিয়ে অন্যদিকে নেয়ার ঝক্কি পোহানো লাগবে না। যেখানে বসেই টিভি দেখুন না কেন এটি আপনার রুমের পরিবেশের সাথে খাপ খাইয়ে নিবে।

টিভি দেখার সময় যারা ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতে চান, আবার একইসাথে, সেরা পিকচার কোয়ালিটির সাথে অনন্য অভিজ্ঞতাও পেতে চান তাদের জন্য অ্যান্টি-গ্লেয়ার প্রযুক্তি-সমৃদ্ধ ওএলইডি টিভি সবচেয়ে যথার্থ হবে। টেলিভিশনের জগতে নতুন যুগের সূচনা করার পাশাপাশি, বিনোদনের অভিজ্ঞতাকেই বদলে দিচ্ছে এই টিভি।

Wednesday, February 26, 2025

ফেসবুক কে পিছনে ফেলে বিশ্বের সর্বোচ্চ ডাউনলোড করা অ্যাপ এখন টিকটক




স্বল্প দৈর্ঘ্যের ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ টিক টক এর ক্রেজ আপনি এই তথ্য থেকেই আন্দাজ করতে পারবেন যে, মাত্র ২ বছরের মধ্যেই এটি জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ফেসবুক কে পিছনে ফেলেছে। এখনো পর্যন্ত গুগল প্লে স্টোর থেকে এই অ্যাপটিকে ডাউনলোড ও ইনস্টল করেছে ৬০ মিলিয়নের বেশি মানুষ ।

টিকটক শুধু ফেসবুক কে পেছনে ফেলেছে তা নয়, জনপ্রিয়তার নিরিখে এর মালিকানাধীন ফটো শেয়ারিং অ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম কেও হারিয়ে দিয়েছে। টিক টক এখন সারাবিশ্বে গুগল প্লে স্টোর থেকে সর্বাধিক ডাউনলোড করা অ্যাপ।

সম্প্রতি সেন্সর টাওয়ার ২০১৯ এর একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে। যেখানে টিকটকের জনপ্রিয়তা কি হারে বাড়ছে তা জানা যায়। সেন্সর টাওয়ারের এই রিপোর্টে বলা হয়েছে টিকটকের মোট ব্যবহারকারির ৪৪ শতাংশ ভারতীয়। চীনা টেকনোলজি কোম্পানি, Bytedance কিছুমাস আগেই এই অ্যাপের নাম music.ly থেকে বদলে টিকটক রাখে। Bytedance টিকটক ছাড়াও সোশ্যাল মিডিয়া শেয়ারিং অ্যাপ Helo নিয়ে এসেছে, এটিও ব্যাপক জনপ্রিয় অ্যাপ।

সেন্সর টাওয়ার রিপোর্ট ২০১৯ অনুসারে, টিকটকের পরে ডাউনলোডের দিক থেকে গুগল প্লে স্টোরে দ্বিতীয় আছে ফেসবুক। এবং এরপর আছে ইনস্টাগ্রাম। এছাড়াও চার নম্বরে আছে আরেকটি ছোট ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ লাইক। পঞ্চম স্থানের কথা বললে এতে ফটো শেয়ারিং অ্যাপ স্ন্যাপচ্যাট অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ গুগল প্লে স্টোরের সর্বাধিক ডাউনলোড হওয়া অ্যাপগুলিতে সোশ্যাল মিডিয়া এবং ফটো, ভিডিও শেয়ার করে নেওয়ার অ্যাপ্লিকেশনগুলির প্রাধান্য রয়েছে।

এদিকে Bytedance গত সপ্তাহে ঘোষণা করেছিল যে তারা স্মার্টফোন নিয়ে আসছে। এই ফোনটি আগে চীনে লঞ্চ করা হবে। কোম্পানি মূলত কম বয়সী ছেলে মেয়েদের কথা মাথায় রেখে এই ফোনটি লঞ্চ করবে। মনে করা হচ্ছে ফোনের সেলফির ক্যামেরা ব্যাপক উন্নত প্রযুক্তির সাথে আসবে।

বছরে ১ কোটি স্মার্টগ্লাস বিক্রির লক্ষ্য মেটার



আমেরিকান টেক জায়ান্ট মেটা তাঁদের স্মার্টগ্লাস (স্মার্ট চশমা) ও ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) হেডসেট নিয়ে যে বেশ উচ্চাকাঙ্ক্ষী সেটা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) মার্ক জাকারবার্গ গত মাসেই জানিয়েছেন যে, মেটার এআই সক্ষমতার স্মার্টগ্লাসের জন্য ২০২৫ সালটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। এবারে জানা গেল, বছরে ১ কোটি রে-ব্যান স্মার্টগ্লাস বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এগোচ্ছে মেটা।

২০২৪ সালে মেটা ১ মিলিয়নের চেয়েও বেশি রে-ব্যান স্মার্টগ্লাস বিক্রি করেছে বলে জানা গেছে। এবছর (২০২৫ সালে) সংখ্যাটা ৫ মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে বলেও গত মাসেই জানিয়েছেন জাকারবার্গ। কিন্তু স্মার্টগ্লাস নিয়ে মেটা যে আরও উচ্চাভিলাষী সেটা জানা গেল রে-ব্যান স্মার্টগ্লাসের চুক্তিভিত্তিক নির্মাতা এসিলরলাক্সোটিকা-এর কল্যাণে।

বিশ্বখ্যাত এই গ্লাস নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাজারে আসার পর থেকে এখন পর্যন্ত ২ মিলিয়ন অর্থাৎ ২০ লাখেরও বেশি রে-ব্যান স্মার্টগ্লাস বিক্রি হয়েছে। তবে ২০২৬ সাল থেকে এসিলরলাক্সোটিকা মেটার জন্য বছরে ১০ মিলিয়ন, অর্থাৎ ১ কোটি স্মার্টগ্লাস তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। এখন এসিলরলাক্সোটিকা যদি বছরে ১ কোটি মেটা স্মার্টগ্লাস তৈরি করে তাহলে সরলভাবে এর অর্থ হচ্ছে জাকারবার্গের মেটা বছরে ১ কোটি স্মার্টগ্লাস বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে।

এসিলরলাক্সোটিকা-এর প্রধান নির্বাহী (সিইও) ফ্রান্সেসকো মিলেরি বলেছেন, ‘(একসময়) একজোড়া চশমা হবে আমাদের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণের প্রধান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম।’ প্রতিষ্ঠানটির ২০২৪ সালের আর্থিক ফলাফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। আপলোডভিআর নামের ভার্চুয়াল-রিয়েলিটি প্ল্যাটফর্মে মাধ্যমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি আরও জানিয়েছেন, অক্টোবর ২০২৩ এর পর থেকে মেটার রে-ব্যান স্মার্টগ্লাস বিক্রি হয়েছে ২ মিলিয়ন ইউনিট।

মিলেরি আরও বলেন যে, মেটার সাথে কাজ করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর প্রতিষ্ঠানের। তবে শুধু রে-ব্যান স্মার্টগ্লাস নিয়েই নয়, এসিলরলাক্সোটিকা তাঁদের ওকলে ব্র্যান্ডের গ্লাস নিয়েও মেটার সাথে কাজ করতে চায়। গত মাসে সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয় যে, মেটাও ওকলে ব্র্যান্ডের স্মার্টগ্লাস নিয়ে আগ্রহী।

রে-ব্যান স্মার্টগ্লাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সম্পর্কে মিলেরি আরও বলেন, ‘এই ধরণের (স্মার্টগ্লাস প্রযুক্তির) বিবর্তনের আলোকে, এবং আমাদের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার সাথে সামঞ্জস্য রেখে, আমরা এখন মেটার রে-ব্যান স্মার্টগ্লাসের উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে চলেছি, যা আগামী বছরের শেষ নাগাদ বছরে ১ কোটি ইউনিটে পৌঁছাবে।’

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে মেটা ও এসিলরলাক্সোটিকা দীর্ঘমেয়াদী এক অংশীদারিত্বের ঘোষণা দেয়, যেটা ২০৩০ সাল পর্যন্ত স্থায়ী হতে চলেছেন।

মিলেরি আরও জানান যে, মেটার সকল গ্লাস বা চশমাতেই থাকবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সাপোর্ট এবং সাবসক্রিপশন-ভিত্তিক বিভিন্ন সেবাও আসতে চলেছে মেটার স্মার্টগ্লাসে। তিনি বলেন, তাঁর প্রতিষ্ঠান এসিলরলাক্সোটিকা চায় মেটার মাল্টিমডাল এআই ফিচারগুলো বিশ্বব্যাপী আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যাক।

উল্লেখ্য, এআর ও ভিআর প্রযুক্তি পণ্য তৈরির জন্য মেটার রয়েছে আলাদা ডিভিশন বা বিভাগ রয়েছে। রিয়েলিটি ল্যাবস নামের এই বিভাগটিতে মেটার এযাবৎকালের মোট বিনিয়োগ চলতি বছরই ১০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে বলে জানা গেছে।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মেটা এ বছরই ডিসপ্লে-সমৃদ্ধ নতুন একটি স্মার্টগ্লাস নিয়ে আসতে পারে। নতুন এই গ্লাসটি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে একটি নিউরাল রিস্টব্যান্ড দিয়ে। তাই অনুমান করা যায়, নতুন স্মার্টগ্লাসের সাথে মেটা নতুন একটি প্রযুক্তি পণ্য নিয়ে আসছে।