Sunday, August 15, 2021

শেয়ার্ড হোস্টিং কি? শেয়ার্ড হোস্টিং সুবিধা অসুবিধা সমূহ-

একটি ওয়েব সাইটটি কে সকলের কাছে তুলে ধরার জন্যে ওয়েব হোস্টিং এর প্রয়োজন । ওয়েব হোস্টিং হল একটি প্রযুক্তি যেখানে ওয়েব সাইট টি কে রাখা হয়।

শেয়ার্ড হোস্টিং একটি  বেশ জনপ্রিয় হোস্টিং সেবা। এটি এমন একটি ওয়েব হোস্টিং সেবা, যেখানে একটি মাত্র সার্ভারের সাথে  একাধিক ওয়েব সাইট হোস্ট করা হয়ে থাকে । এবং একটি সার্ভারের (Processor, RAM, storage, CPU ও bandwidth)- সবকিছু  অন্যান্য ব্যবহারকারিদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়।

শেয়ার্ড হোস্টিং -এর বিশেষ সুবিধা হল- এর সকল সিকিউরিটি এবং সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব থাকে হোস্টিং  প্রদানকারীদের উপর ,এমনকি হোস্টিং প্রদানকারীদের দেওয়া প্যাকেজ ও ফিচারের উপর নির্ভর করে গ্রাহকদের সার্ভিস কিনতে  হয়। যেমন :

  • ইমেইল
  • সাবডোমেইন
  • ডাটাবেজ
  • ফ্রি cPanel
  • ফ্রি এস এসএল
  • ৯৯.৯% আপটাইম
  • ব্যান্ডউইথ
  • ডিস্ক স্পেস

শেয়ার্ড হোস্টিং -এর কিছু  সুবিধা অসুবিধা নিয়ে নিচে আলোচনা করা হল-

শেয়ার্ড হোস্টিং -এর  সুবিধা :

সাশ্রয়ী :  ব্যবসায়ের জন্য কম খরচে ওয়েবসাইট তৈরী করার জন্য শেয়ার্ড হোস্টিং একটি উত্তম পদ্ধতি। শেয়ার্ড হোস্টিং অনেক সাশ্রয়ী কেননা ওয়েব হোস্টিং এর খরচ সার্ভারের অন্যান্য ওয়েবসাইটের সাথে শেয়ার করানো এবং অনেক গুলা ওয়েব সাইটে হোস্ট  করাতে পারে বলে প্রদানকারীরা খুবই কম দামে হোস্টিং প্রদান করতে পারে। পেইড হোস্টিং গুলোর মধ্যে, শেয়ার্ড হোস্টিং এ সবচেয়ে কম খরচে যথেষ্ট সুযোগ সুবিধা থাকার কারণে ব্যবসায়ীদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয়।

ব্যবহারের সুবিধাশেয়ার্ড হোস্টিং খুব সহজে ব্যবহার করা যায় এবং তার জন্য কোন অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয় না। এটি  যে কোন ধরনের ওয়েব সাইটে হোস্ট করা যায় । সবথেকে বেশি ভাল হয় ছোট-ছোট সাইট গুলা হোস্ট করা, যেমন যে সাইটগুলাতে সাধারণত মাসিক ভিজিটর ২০-৩০ হাজারের মত আসে। এছাড়া  শেয়ার্ড হোস্টিং-এর প্রদানকারীরা তার ব্যবহারকারিদের  একটি কন্ট্রোল প্যানেল দিয়ে থাকে যার মাধ্যমে খুব সহজে ওয়েব সাইটের কার্যক্রম  পরিচালনা করা যায়।

সার্ভার মেইনটেনেন্স : শেয়ার্ড হোস্টিং- ব্যাবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারিকে সার্ভার মেইনটেনেন্স সংক্রান্ত কোন সমস্যা ফেস করতে হয় না, এসকল দায়িত্ব বহন করে হোস্টিং প্রদানকারী। হোস্টিং প্রদানকারীদের থেকে গ্রাহকরা  কিছু টেকনিক্যাল সাপোর্ট ও পেয়ে থাকেন।

শেয়ার্ড হোস্টিং -এর  অসুবিধা

লিমিটেড রিসোর্স : বড় ওয়েব সাইট গুলিতে যেখানে প্রচুর ভিজিটর আসে এবং অনেক প্রোডাক্ট বা সার্ভিস আছে সেক্ষেত্রে, তাদের  শেয়ার্ড হোস্টিং বাছাই করা বোকামি।

ডাউনটাইম  : স্বল্প মূল্য এবং ক্রেতার চাহিদা থাকার কারনে অধিকাংশ কোম্পানী শেয়ার্ড হোস্টিং দিয়ে থাকে কিন্তু নিদির্ষ্ট করে কখনোই তাদের সীমা বলে না। যার জন্য বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় কিছুদিন পর সাইট ডাউন হয়ে গেছে। এছাড়া ওয়েব সাইটে যদি ট্রাফিক  বা লোড বেশি থাকে সেক্ষেত্রেও এর প্রভাবে অন্য ওয়েব সাইটগুলা ডাউন হয়ে যাবে, যার ফলে ডাউন হয়ে যাওয়া ওয়েবসাইটে ভিজিটর ঢুকতে পারবে না । এ কারণে অনেক ভিজিটর হারাতে হয়।

অনির্ভরযোগ্য : শেয়ার্ড হোস্টিং-এ  নির্দিষ্ট কিছু উপাদান যা অনেকগুলা  হোস্টিং ব্যবহারকারির মধ্যে ভাগ করে দেওয়া থাকে, যার ফলে কে কোন ধরনের কি সাইট হোস্ট করছে  তা ট্রাক করা যায়না। ফলাফল – এগুলো ম্যালওয়ার ও ভাইরাস দ্বারা সহজেই সংক্রমিত হতে পারে ।  আর একটি সাইট আক্রান্ত হলে (যেহেতু তারা একই সার্ভার শেয়ার করছে) স্বাভাবিকভাবেই ওই সার্ভারের বাকি সাইটগুলোও আক্রান্ত হয় ।

উপরিউক্ত, বিষয়য়গুলা আলোচনা করার পর বোঝা যায় যে, শেয়ার্ড হোস্টিং-এর সুবিধা এবং অসুবিধা উভয়দিক আছে।

যার জন্য আপনাকে ভালো মানের  সার্ভিস পাওয়ার জন্য একটি উন্নত  মানের Web hosting service provider বেছে নিতে হবে এবং বিভিন্ন ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হলে তারাই উপযুক্ত ব্যাবস্থার মাধ্যমে আপনার  সাইটটিকে সুরক্ষিত রাখবে।


পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম ১০টি নদী

মহাবিশ্বের বিভিন্ন দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে অসংখ্য সব নদ-নদী । তবে আকার আয়তন এবং গভীরতায় রয়েছে একটি অন্যটির থেকে বিশাল ব্যবধান । তবে আসুন তাহলে দেখা যাক পৃথিবীর সবচেয়ে দীর্ঘতম ১০টি নদীর সামান্য তথ্য উপাত্ত।
১। নীল নদ (Nile) পৃথিবীর বৃহত্তম নদী। নীল নদের দৈর্ঘ্য ৬,৬৫০ কিলোমিটার। ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া, সুদান, উগান্ডা, তাঞ্জানিয়া, কেনিয়া, রুয়ান্ডা, বুরুন্ডি, মিশর ,কঙ্গো ,দক্ষিণ সুদান ইত্যাদি দেশের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নীল নদ এসে মিশেছে ভূমধ্য সাগরে।
২। আমাজন (Amazon) নদীর দৈর্ঘ্য ৬,৪০০ কিলোমিটার। ব্রাজিল , পেরু , বোলিভিয়া , কলোমবিয়া , ইকুয়েডর , ভেনিজুয়েলা , গিয়ানা ইত্যাদি দেশের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষে এ নদীটি এসে মিশেছে আটলান্টিক মহাসাগরে।
৩। Yangtze নদীর দৈর্ঘ্য ৬,৩০০ কিলোমিটার। চীনের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষে এসে মিশেছে পূর্ব চীন সাগরে।
৪। মিসিসিপি (Mississippi) নদীর দৈর্ঘ্য ৬,২৭৫ কিলোমিটার। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষে এ নদীটি এসে মিশেছে মেক্সিকো উপসাগরে।
৫। Yenisei নদীর দৈর্ঘ্য ৫,৫৩৯ কিলোমিটার। রাশিয়া ও মঙ্গোলিয়ার মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষে এ নদীটি এসে মিশেছে (Kara Sea) কারা সাগরে।
৬। Yellow River বা হলুদ নদীর দৈর্ঘ্য ৫,৪৬৪ কিলোমিটার। চীনের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষে এসে মিশেছে Bohai Sea তে।
৭। Ob নদীর দৈর্ঘ্য ৫,৪১০ কিলোমিটার। রাশিয়া, কাজাখিস্তান , চীন, মঙ্গোলিয়া ইত্যাদি দেশের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষে এসে মিশেছে Ob উপসাগরে।
৮। পারানা (Parana) নদীর দৈর্ঘ্য ৪,৮৮০ কিলোমিটার। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, প্যারাগুয়ে, বোলিভিয়া, উরুগুয়ে ইত্যাদি দেশের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষে এসে মিশেছে Rio de la Plata এ।
৯। কঙ্গো (Congo) নদীর দৈর্ঘ্য ৪,৭০০ কিলোমিটার। কঙ্গো, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র , এ্যাঙ্গোলা, তাঞ্জানিয়া , ক্যামেরুন , জাম্বিয়া , বুরুন্ডি , রুয়ান্ডা ইত্যাদি দেশের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষে এসে মিশেছে আটলান্টিক মহাসাগরে।
১০। দশম দীর্ঘতম নদীর নাম আমুর (Amur), এর দৈর্ঘ্য ৪,৪৪৪ কিলোমিটার। রাশিয়া, চীন, মঙ্গোলিয়া ইত্যাদি দেশের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত হয়ে শেষে এ নদীটি এসে মিশেছে Sea of Okhotsk এ।